সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

তাপমাত্রার পরিবর্তন - প্রকৃতির নিরব প্রতিক্রিয়া

বিশ্বের তাপমাত্রা পরিবর্তনে দায় কার বেশি এই নিয়ে তর্কের শেষ নেই। বলা হচ্ছে ধনী দেশগুলোর শিল্পায়ন বা বিলাসিতার সাথে যেসব যান্ত্রিক প্রক্রিয়া জড়িত তার দ্বারাই নাকি পৃথিবী বেশি উত্তপ্ত হয়েছে। কিছুদিন আগে স্বয়ং আমাদের প্রধানমন্ত্রীও অনেক সরব ছিলেন আবহাওয়ার এই পরিবর্তনে আমাদের মত গরিব দেশগুলো যে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ আদায় করতে, ধনী দেশগুলো থেকে। ফলাফল কি হয়েছে জানি না। তবে ওই ক্ষতিপূরণে সত্যিকার কে লাভবান হবে তা বলা মুশকিল। ২০১২-র শেষ মাসে বিগত কয়েক দশকের মধ্যে দেশের সর্বনিন্ম তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এই ঠান্ডার কি কষ্ট তা বোঝার লোকের সংখ্যা দুর্ভাগ্যক্রমে আমাদের দেশে অসংখ্য। পৃথিবীর অনেক দেশে তুষারপাত হয়। কিন্তু সেসব দেশের মানুষের জীবন পদ্ধতি ওই ঠান্ডার সাথে খাপ খাওয়ানো। আমরা মূলত গরম আবহাওয়ার মানুষ। গ্রীষ্মের খরতাপে রোদে পুড়ে আমরা মাঠে কাজ করতে পারি, কিন্তু ঠান্ডা আমাদের ঠিকই কাবু করে ফেলে। আমাদের দেশে গ্রীষ্মের অনেক ফল আছে যা খেয়ে আমাদের শরীর ঠান্ডা করতে পারি। কিন্তু আমাদের তেমন কোনো শীতকালীন ফল নেই যা খেয়ে শরীর গরম হতে পারে। আরেকটা সমস্যা হলো এখানে কনকনে ঠান্ডা পড়ে মাত্র কয়েকটা দিনের জন্য - একটানা ঠান্ডা পড়লে বড়জোর তা দুই সপ্তাহ থাকে। এর কারণে আমরা অনেক সময় তা মোকাবেলার ঠিক প্রস্তুতিও রাখি না। আমাদের ঠান্ডাটা কষ্ট দেয় কিন্তু স্মৃতিতে গেথে থাকে না। আবার ক্ষতি যা হবার তা কিন্তু হয়েই যায়। অনেকে অনুমান করছেন সামনের কয়েক বছরের মধ্যেই হয়ত আমাদের দেশেও তুষারপাত হতে পারে। আমাদের মত মানুষের তা সহ্য করা আসলেই কঠিন কাজ হবে। সে লক্ষ্যে প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন। আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষের আবহাওয়া সচেতনতা একেবারে নেই বললেই চলে। দিনের তাপমাত্রা জানা বা খোজ রাখার আবশ্যকতা কেউ বোধ করেন না। বা আসলে জানতে চাইলেও তা কোত্থেকে জানা যেতে পারে সেরকম কোনো অবকাঠামো আমাদের নেই। মানুন আর না মানুন, কয়েক বছরের মধ্যে আপনার বাড়ি সাজানোতেও আবহাওয়ার পরিবর্তনকে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য হিসেবে গুনতে হবে। সুতরাং আগে থেকেই একটু সচেতন হন। এই প্রকৃতির বাইরে যেহেতু আপনি যেতে পারবেন না সেহেতু এর প্রতি যদি আপনার কোনো দায়িত্ব থেকে থাকে তবে তা জেনে নিন, পালন করুন। তথ্যসূত্র: www.ajkerweather.com
এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

weather, nature, Bangladesh, winter, cold, summer, temperature, snow