সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

IMG_20151112_124353 (1).jpg

গোলাপ সমাহার এক চিলতে বারান্দা সাজিয়ে তুলুন গোলাপের সম্ভারে

গোলাপ একাধারে ভালবাসার প্রতীক,বন্ধুত্বের প্রতীক এবং সৌন্দর্যের প্রতীক। কেমন লাগবে আপনার ছোট এক চিলতে বারান্দা যদি গোলাপের সৌরভে ভরে উঠে। খুব সহজে যারা টবের মধ্যে গোলাপের চাষ করতে চান তাদের জন্য আজকের এই  ফিচার।

আমি নিজে বাগান করতে খুব ভালবাসি আর গোলাপ আমার সব থেকে প্রিয়। মনে হয় সবারই! কিন্তু গোলাপ চাষ করতে যেয়ে আমাকে বিভিন্ন প্রতিকুলতার সম্মুখীন হতে হয়েছে আর আমার অনেক গাছই নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু একটা সময় আমি সফল হয়েছি আর আমার বারান্দা এখন গোলাপের সুবাসে ভরে থাকে। আমার অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু নির্দিষ্ট বিষয় এখানে তুলে ধরছি যা আপনাদের গোলাপ চাষের জন্য অনেক সহায়ক হবে। 

ভাল মানের চারা লাগানঃ শীতকাল গোলাপ চাষের উপযুক্ত সময়।এ সময় আপনি ভাল মানের এবং বিভিন্ন জাতের চারা পাবেন। যেহেতু গোলাপের চারা কলম করে করা হয় তাই চারা কেনার সময় লক্ষ রাখবেন চারাটির মূল কান্ডটি যেন বেশ মোটা ধরনের হয়। কারন এই কান্ড থেকেই শাখা-প্রশাখা বিস্তার হবে।

সঠিক টব নির্বাচন করুনঃ সাধারণত বড় টবেই গোলাপ ভাল হয় কিন্তু বারান্দার  জন্য ন্যূনতম ১২” টব নির্বাচন করুন। গোলাপ গাছের শিকড় মাটির বেশ গভীরে চলে যায় এজন্য টব যত বড় হবে ততই ভাল।

সার প্রয়োগ করুনঃ যখন টবে চারা রোপণ করবেন তার আগে টবের মাটির সাথে জৈব সার মিশিয়ে নিন এবং প্রতি মাসে গাছে সার দিন।বাজারে বিভিন্ন জৈব সার কিনতে পাওয়া যায় কিন্তু সবচেয়ে ভাল হয় যদি গোবর সার ব্যাবহার করতে পারেন।

নিয়মিত পানি দিনঃ গোলাপ পানি ভালবাসে। প্রতিদিন সকালে গাছের গোঁড়ায় পানি দিন এবং বিকালে গাছের উপর পানি স্প্রে করুন। এতে ফুল অনেক দিন পর্যন্ত তাজা থাকবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে গাছের গোঁড়ার পানি যেন কখনই অতিরিক্ত না হয় এতে শিকড় পচে যেতে পারে।

গাছ রোগ মুক্ত রাখুনঃ গোলাপ গাছে বিভিন্ন রোগ ও খুব বেশি পোকামাকড় এর আক্রমণ হয়।এতে করে ফুল ছোট হয়ে যাওয়া,পাতা কুঁচকে যাওয়া,পাতা হলুদ হয়ে  যাওয়া এমনকি গাছ মরে পর্যন্ত যেতে পারে।সব রোগের জন্যই একই ধরনের কীটনাশক কখনই ব্যাবহার করবেন না। পোকার জন্য Insecticide, মাকড়ের জন্য

pesticide ও ছত্রাকের জন্য Fungicide ব্যাবহার করুন।

নিয়মিত গাছ ছাঁটুনঃ গোলাপ গাছ খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায় এজন্য গাছ নিয়মিত ছাঁটুন।টবের মধ্যের গাছ খুব বেশি বড় হলে এতে ফুল অনেক কম ফুটবে আর গাছের আকৃতি নষ্ট হয়ে যাবে। এছাড়া ফুল ফোটার দুই বা তিন দিন পর ৪৫’ এঙ্গেলে ৮ বা ১০ ইঞ্চি নিচ থেকে ডাল সহ কেটে ফেলুন। এতে নতুন করে সেখান থেকে কুঁড়ি বের হবে আর ফুল বেশি উৎপাদন হবে।কাটা ফুল কি করবেন!আপনার ড্রয়িংরুম বা বেডরুমে সাজিয়ে রাখুন।  

জংলি কাণ্ড কেটে ফেলুনঃ গোলাপ গাছে খুব বেশি জংলি কাণ্ড বের হয়। এই কাণ্ড খুব দ্রুত বৃদ্ধি পাবার কারনে গাছের রস শুষে নেয় আর কখনই এতে ফুল ফোটে না। সাথে সাথে ভাল কাণ্ডের ফুল ফোটা ও অধিক হারে কমতে থাকে। এক সময় গাছ অনেক বড় হয়ে যায় আর ফুল শুন্য হয়ে পরে। এজন্য খেয়াল রাখুন যখন গাছের গোঁড়া থেকে নতুন কোন কাণ্ড বের হবে তার পাতার সংখ্যা যদি ৬ টা করে হয় আর দ্রুত বাড়তে থাকে সেটাই জংলি কাণ্ড।তাই কোন দয়া মায়া না করে একদম গোঁড়া থেকে কেটে ফেলুন জংলি কাণ্ড।

রান্নাঘরের ফেলে দেয়া জিনিস কাজে লাগানঃ ভাবছেন,এটা আবার কি! এর মানে হল ফেলে দেয়া সব্জির অংশ,চায়ের লিকার,ডিমের খোসা ইত্যাদি গাছের জন্য খুব ভাল সার। তাই এগুলো ফেলে না দিয়ে গাছের গোঁড়ায় দিয়ে দিন।

সর্বশেষ একটা ব্যাপার সবসময় খেয়াল রাখতে আপনার বারান্দায় যেন যথেষ্ট রোদ আসে।বিশেষ করে সকালের রোদ গোলাপের জন্য খুবই উপকারি।শীত আসি আসি করছে তাহলে আর দেরি কেন! আপনার এক চিলতে বারান্দা সাজিয়ে তুলুন গোলাপের সম্ভারে।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

বারান্দা, গোলাপ-চাষ, সার, আলো, পরিচর্যা